মিশিবিবি উপন্যাস, জান্নাতুল নাঈমা, বুক রিভিউ, কোথায় পাবেন বইটি?

মিশিবিবি উপন্যাস


 বুক রিভিউ 

বইয়ের নামঃ মিশিবিবি

লেখকের নাম ঃ জান্নাতুল নাঈমা

প্রকাশনী ঃ বর্ণলিপি প্রকাশনী। 

বিষয়ঃ সামাজিক থ্রিলার এবং পুরাকাহিনী। 

এক সময় এই বাংলায় ছিলো অনেক ধন-সম্পদে।চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল যা আজ আর নেই। এই সম্পদের উপর চোখ পড়েছিল বিদেশিদের। অতীতে বাংলার সম্পদের লোভে পড়ে অনেক বনিক সম্প্রদায় এদেশে এসে ছিল। প্রায় ২০০ বছর শাসন করেছে ইংরেজরা।

তাদের উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসা।আবার কেউ ব্যবসার পাশাপাশি দেশের হাল ধরতে চেয়েছে। অনেক দেশের বনিকরাই ছিল কিন্তু তাদের মধ্যে বেশি ছিল ইংরেজ রা। এরা শাসন, শোষণ করেছে বেশি। বাংলার মানুষকে তারা দিনের পর দিন অত্যাচার করেছে। যত ভাবে বাংলা কে শোষণ করা যায় তারা তা করেছে। তারা বাংলার মানুষের উপর নির্মম ভাবে অত্যাচার করত।তাদের এই ভয়ানক রূপ বাংলার মানুষ দেখেছে।

যত প্রকার নির্মমতা প্রকাশ করা যায় সব কিছুই তারা প্রকাশ করেছে। আর এইসব ঘটনা এবং কিছু মানুষের কাহিনি দিয়ে গাঁথা “জান্নাতুল নাঈমার” উপন্যাস ❝মিশিবিবি❞। এখানে প্রেম,বিচ্ছেদ, হিংসা, অত্যাচার, কপটতা, গৌড়ামি পূর্ণ কুসংস্কার,  অর্থের প্রতি লোভ সবকিছুই সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। 

মিশিবিবি উপন্যাসের কাহিনী সংক্ষেপ ঃ

সদ্য বাস্তব জীবন নিয়ে জ্ঞান হওয়া এক কিশোরীর অগাধ ভালোবাসা সৃষ্টি হয় কুড়ি ছোয়া এক যুবকের প্রতি। যুবকের জীবনে সূচনা কারী হচ্ছে এই কিশোরী কন্যা।তাই প্রথম প্রেম হোক বা আবেগ হোক তার ভালো লাগে মেয়েটিকে। তাই যুবকের দিন দিন প্রেম বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাদের মাঝে প্রনয় আদান প্রদান হয়। 

একজন অন্য জনের শূন্যতা অনুভব করে। কিন্তু ভালোবাসার এক বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যুবক কিশোরী মেয়েটির কাছে স্বীকার করে সে একজন বিদ্রোহী। বিদ্রোহী যুবকের নাম ❝ইন্দুকুল❞। সে যেমন বিচক্ষণ তেমনি ব্যক্তিসম্পূন্ন একজন মানুষ। তার শক্তি সবটুকু সে দেশের জন্য বিলিয়ে দিতে রাজি। কারন দেশকে যে সে বড় ভালোবাসে।

ইন্দুকুলের প্রধান ও একমাত্র কাজ দেশদ্রোহী দের নির্মূল করা। এটাই তার জীবনের প্রধান লক্ষ্য। সে মনে প্রানে বিশ্বাস করে তার জন্ম হয়েছে দেশকে রক্ষা করা। বাইরের শক্র থেকে দেশকে বাঁচানো। আর সে বেঁচে থাকতে তার দেশের ক্ষতি কেউ করতে পারবে না। তার মনের শক্তি কে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।যে লোক বিদ্রোহী তার দ্বারা সব হলেও ভালোবাসা হয় না বা তার হৃদয়ে স্থান পায় না। কার তার যে ধ্যান জ্ঞান তা শুধু শক্রদের ধ্বংস করা।

ইন্দুকুলের হৃদয়ে তাই প্রণয় আশ্রয় পায় না। সে তা গ্রহণ করতে নারাজ। যে দেশের রক্ষক, যার মনে কাঠিন্যে থাকে, শত্রুর নেশায় যার হৃদয় সব সময় ব্যাকুল থাকে সে হৃদয়ে ভালোবাসা, প্রেম, মায়া প্রশয় পাবে কী করে? ইন্দুকুল যেন একটা অদৃশ্য কিছুর কাছে বাঁধা। সে মনে প্রানে বিশ্বাস করে একদিন দেশের জন্য তার প্রান যাবে। তাহলে কীসের জন্য এই ক্ষনিকের ভালো লাগা। তাও আবার হৃদয়ের একটি অংশ জুড়ে তাকে স্থান দিয়ে বসেছে ইন্দুকুল। ইন্দুকুল এ কথা মনে প্রানে বিশ্বাস করলেও তার সমস্ত কল্পনা কিন্তু কিশোরীকে ঘিরে। তার জন্যই ব্যকুল।

সে কিছু তেই কিশোরীর কে বুঝতে পারে না।কিশোরী অতি আসক্ত ইন্দুকুলের প্রতি। এই বয়সে তার আবেগ বেশি। যুক্তি সে মানবে না।  তার কাছে যা ঠিক তা সে করবে। কেউ বাঁধা দিলে তাকে বুড়ো আঙুল দেখাবে। আবেগের বসে অন্ধ হয়ে কিশোরী জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করে। এই ভুলের ক্ষমা আছে কিন্তু কষ্টের শেষ নেই।

অনেক দিন কেটে যায়। তাগড়া যুবক থেকে ইন্দুকুল হয়ে ওঠে মধ্যবয়সী পুরুষ। তার মাঝে বিচক্ষণতা আরো বৃদ্ধি পায়। সাহসীকতার পরিমান বেড়ে যায়। অন্যদিকে কিশোরী হয়ে ওঠে এিশ পার হওয়া এক রমনী নারী। তারপর, জীবনের এত গুলো বছর,  এতো বসন্ত দুজনের হেলায় গেলো নাকি রঙিন সংসার করে ভালোবাসায় সিক্ত ছিল?

জীবনে নানা রকম বাধা আসবে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তোমাকে জয় করতে হবে। বাঁধা না আসলে সফলতায় আনন্দ পাওয়া যায় না। নুন ছাড়া তরকারি যেমন বিষাদ লাগে ঠিক তেমনি বাঁধা না আসলে সফলতা বিষাদ লাগে। 

ভাগ্য গুণে অনেকে বাঁধা থেকে বেচে যায়। ভাগ্য তাদের আড়াল করে রেখেছে নানা রকম বিপদ থেকে। পরিবেশে যেমন ঝড় ওঠে ঠিক তেমনি মানুষের হৃদয়ে বা জীবনে ও ঝড় ওঠে। পার্থক্য শুধু এতটুকু পরিবেশে যে ঝড় হয় তা বিকট আওয়াজে সব লন্ড বন্ড করে দেয়। আর মানুষের মনে বা হৃদয়ে যে ঝড় ওঠে তা মানুষকে নিশ্চুপ ও শান্ত করে দেয়। 

এই ঝড় ইন্দুকুল ও কিশোরী সহ্য করতে পেরেছিল? তারা কী একটা রঙিন স্বপ্ন বাস্তবের রূপ দিতে পেরে ছিল? নাকি তীব্র ঝড়ে মুখ থুবড়ে পড়েছিল বট গাছের মতো?

ইন্দুকুল দেশের জন্য প্রাণ দিতে ব্যাকুল। সে এক মুহূর্ত দ্বিধা করবে না দেশের জন্য প্রাণ দিতে। দেশ যখনই তার প্রাণ চাইবে সে তা বিলিয়ে দিবে। সে দেশের জন্য রক্ত দিয়ে দিতে চায়। দেশকে শক্র মুক্ত করতে চায়। দেশ রক্ষা করতে তার বিচক্ষণতা ও কর্মশক্তি দৃষ্টিগোচর করা যায়। কিন্তু দিনশেষে নব উত্থানের পাশে নিজের নামটা কি পাবে ইন্দুকুল।

মিশিবিবি হচ্ছে আগুনে পুড়ে যাওয়া অগ্নিকুণ্ড আর ইন্দুকুল হচ্ছে আগুনের ফুলকি। ইন্দুকুল আহত প্রেমিক, জ্বলে যাওয়ার সৈনিক।

আরও কিছু বুক রিভিউ.................

১/শয়তানের নীলনকশা- সাহেদ হাসান (বুক রিভিউ)
২/নীলকান্তমণির রহস্য, শার্লক হোমস, বুক রিভিউ
৩/নফসের বিরুদ্ধে লড়াই- মাহমুদ বিন নূর ( বুক রিভিউ)

চরিত্র বিশ্লেষণঃ পরিবানু ও মিশিবিবি মানুষ দুই কিন্তু তাদের অনুভূতি, চোখের মায়া সাগর একি। শুধু এক জায়গাতে পার্থক্য একজন চঞ্চল তো আরেকজন বিচক্ষণ। আর ইন্দুকুলের চরিত্র একদম নিখুঁত। বিচক্ষণ, তীক্ষ্ণ জ্ঞানের অধিকারী ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন।

দেশের জন্য সে তার জীবন দিতে সদা প্রস্তুত থাকে। তার প্রধান একমাত্র কাজ এটি আর এটিকে জীবনের ব্রত হিসেবে সে মেনে নিয়েছে।

হাশিবিবি চরিত্র এটা বেশ সুন্দর। একজন মমতাময়ী মা যিনি তার সকল ভালোবাসা,আদর, স্নেহ তার সন্তানের কাছে বিলিয়ে দিয়েছেন। সন্তানের প্রতি তার মায়া হয়,তিনি ছাড়া কে দেখবেন এই সন্তানকে।

তিনি সবসময় সন্তানের জন্য চিন্তা করেন। তিনি হারিয়ে ফেলা মাতৃত্ব লুফে নিতে ভুল করেননি। পাশাপাশি যেসব চরিত্র ছিল তারাও গল্পের আবহাওয়া সুন্দর ভাবে বজায় রেখেছে। যেমন রেনুসা, কাকন, খলিল, মধু সকলেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিল গল্পে।

 গল্পে বানেছা চরিত্র সৃষ্টি হয়েছেন নারীই নারীর চরম শত্রু এটা প্রমাণ করতে। মাজিম আলি গ্রামের সাধারণ একজন চাষা কিন্তু অতীত তার সাধারণ নয় রহস্যে ঘেরা এই চরিত্র। রহস্যে ঘেরা এই চরিত্রে আছে যেমন বন্ধুত্ব তেমনি আছে বিশ্বাসঘাতকতা।তবে এই চরিত্রের পরিণতি তুষ্ট না করলেও হৃদয়ে শীতলতা দিয়েছে। 

  • বই সম্বন্ধে আমার কিছু কথা...............

 আমি যখন বইটা পড়া শুরু করি তখন এটাকে তেমন গুরুত্ব দিইনি কিন্তু গল্পে কিছুদূর আসার পর এটি আমাকে মুগ্ধ করেছে।

আমি চরিত্রগুলো সমন্ধে পড়ছি আর চিন্তা করেছি। মনে হচ্ছে সব আমার সামনে ঘটছে। বাইরের জগৎ নিয়ে আমার কোন ধ্যান-ধারণা ছিল না। আমি একনাগার বইটা পড়ি যাতে সবকিছু উপলব্ধি করতে পারি। বইটা পড়ে আমার অনুভূতি সম্পূন্ন প্রকাশ করা যাবে না তাই আংশিকভাবে প্রকাশ করলাম।

লেখিকার প্রথম বই যে এটা তা বই পড়লে বুঝা যায় না।সেই হিসেবে লেখিকা সার্থক। খুব সুন্দর ও সাবলীলভাবে বইটি লিখেছেন। 

  • বইটি কোথায় পাবো? 

বইটি অনলাইনে পাবেন রকমারি.কম এ। (লিংক দেওয়া আছে)। আর অফলাইনে যে কোন লাইব্রেরিতে পেয়ে যাবেন বইটি। 

প্রকাশনী ঃ বর্ণলিপি প্রকাশনী। 

Post a Comment

Previous Post Next Post