![]() |
| কালো জাদু |
পাঁচটি স্বপ্ন দেখলে বুঝবেন আপনার উপর যাদু-টোনা করা হয়েছে বা ব্ল্যাক ম্যাজিক করা হয়েছে।পৃথিবীতে দুষ্ট মানুষের অভাব নাই। বর্তমান আমাদের সমাজের ভিতর আমাদের সোসাইটির ভিতরে কিছু মানুষ এমন রয়েছে এতটা নিচে নেমে গিয়েছে যে মানুষের সাথে একটু ঝগড়া-বিবাদ হলেই তাকে ব্ল্যাক ম্যাজিক করে থাকে।
কালো জাদু বা অন্ধকার জাদু হলো এমন এক ধরনের চর্চা যা অন্যের অনিষ্ট সাধনে কিংবা নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্যে করা হয়। এটি অতিমানবিক ও অশুভ শক্তির সংশ্লিষ্টতা । কালো জাদু সাধারনত অতিমানবিক শক্তি দ্বারা করা হয় । তবে অনেকে বলেন এতে ভূত, প্রেত, আত্মা, প্রেতাত্মা ব্যবহার করা হয় ।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের এগুলো থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। কারন এগুলো ইমান নষ্ট করে দেয়।এগুলো দ্বারা অন্যের অনিষ্ট করা হয়। যা কখনো ইসলাম সমর্থন করে না। তাই আল্লাহ তায়ালা এসব কালো জাদু থেকে আমাদের বিরত থাকতে বলেছেন।
কুপরিকালাম করে তাকে যাদু করে এমন ভাবে তাকে অসুস্থ করে ফেলে যে সে আর দুনিয়াতে বেশিদিন বাঁচতে পারে না। এ সমস্যাটা বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে।যদি আপনি এই পাঁচটি স্বপ্ন দেখেন তাহলেই বুঝবেন যে আপনার উপর যাদু-টোনা করা হয়েছে। মনে রাখবেন কুরআন এবং সুন্নাহর ছাড়া আপনি কিন্তু কোথাও এর সমাধান পাবেন না। আপনি এই যে একটা জাদু করা হয় অথবা বিভিন্ন বিপদে পড়ে যান এগুলো থেকে বাঁচার জন্য একমাত্র কুরআন এবং সুন্নাহ কিন্তু এনাফ। এটাই যথেষ্ট। এছাড়া আপনাকে আর কোথাও যেতে হবে না কুরআন এবং সুন্নাহর ভিতরে সবকিছু রয়েছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে জানিয়ে দিয়েছেন, যদি কারো উপর এমন হয় যে আপনার বিভিন্ন সময়ে অসুস্থতা দেখা দিচ্ছে মাথাব্যথা করে অনেক সময় বিভিন্নভাবে আপনি ঘুমের ভিতরে ভয় পেয়ে থাকেন এখন আপনার উপর যাদু-টোনা করা হয়েছে কিনা আপনি বারবার অসুস্থ পড়ছেন ডক্টরের কাছে যাচ্ছেন, কিন্তু কোন রোগ ধরা পড়ছে না কিন্তু আপনি অসুস্থ আপনার কিছুই ভালো লাগে না।মাথাব্যথা করে বিভিন্ন সময়ে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কিছু শিক্ষা দিয়েছেন। সেটা হচ্ছে আপনি ঘুমানোর আগে আল্লাহর একটি নাম 33 বার করে পড়বেন।
এরপর যদি পাঁচটি স্বপ্নের যেকোনো একটা দেখেন তাহলে মনে করবেন যে আপনার উপরে যাদু-টোনা করা হয়েছে।
আল্লাহ তালার একটি নাম ❝ইয়া মুমিত❞। নিয়মিত এই নামটা 33 বার করে আপনি ঘুমানোর আগে পড়বেন। ঘুমানোর পরে যদি আপনি এই পাঁচটি স্বপ্ন দেখেন তাহলে মনে করবেন,আপনার উপর যাদু-টোনা করা হয়েছে।
১. স্বপ্নে যদি আপনি দেখেন যে কালো কুকুর তাড়া করছেন। কালো কুকুর ব্ল্যাক কালারের যে কুকুর গুলো আছে রাতের বেলায় দেখা যায়।অনেকসময় এগুলো মধ্যে জিন থাকে। হাদীসে রয়েছে মিশকাত শরীফের হাদীসে রয়েছে জিন কালো কুকুরের রূপ ধারণ করে।আপনি যদি স্বপ্নে দেখেন আপনি কালো কুকুর তাড়া করছেন তাহলে মনে করবেন যে আপনার উপরে কেউ ব্ল্যাক ম্যাজিক করেছে।
২. আপনি যদি স্বপ্নে দেখেন আপনাকে সাপ কামড়াচ্ছে তাহলে এটাও কালো জাদুর একটি লক্ষন।
৩.❝ইয়া মুমিত❞ ৩৩ বার পাঠ করে যদি আপনি স্বপ্ন দেখেন মাটি ফেটে যাচ্ছে তাহলে বুঝবেন আপনার উপর যাদু করা হয়েছে।
৪. কালো কাক যদি স্বপ্নে দেখেন তাহলে এটাও কালো জাদুর একটি লক্ষন।
৫.আপনি যদি স্বপ্নের মাঝে দেখেন আপনি ফকির কে গালি দিচ্ছেন তাহলে বুঝবেন আপনি কালো জাদুতে আক্রান্ত। আপনি নিয়মিত 33 বার ইয়া মুমিত পাঠ করার পরে যদি আপনি দেখেন এই পাঁচটি স্বপ্নের যেকোনো একটি তাহলেই বুঝবেন আপনার উপরে ব্ল্যাক ম্যাজিক করা হয়েছে। কালো যাদু করা হয়েছে।
এখন যদি আপনার উপরে জাদু করা হয় তাহলে আপনি কি করবেন?
ব্ল্যাক ম্যাজিক করা হয় বর্তমানে আমাদের সোসাইটির ভিতর অনেক মেয়েদের কে ব্ল্যাক ম্যাজিক করে রেখেছে। তার বিয়ে হচ্ছেনা। আবার অনেকে এমন রয়েছে মানুষকে অসুস্থ করে ফেলছে।
ব্ল্যাক ম্যাজিক করে কুফুরী কালাম করে জাদু টোনা করে তাকে এমন ভাবে অসুস্থ করে ফেলেছে। সে কোন কাজ করতে পারে না। কোন কিছু করতে তার ভালো লাগে না। সব জায়গায় অশান্তি ঘরের ভিতরে ভালো লাগেনা। শুধু সারাদিন বাইরে থাকে এমন হবে অনেক।
কালো জাদু থেকে কীভাবে রক্ষা পাবেন?
আনাস বিন মালিক (রা.) বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া পড়ে অসুস্থ ব্যক্তিদের ঝাড়ফুঁক করতেন। দোয়াটি হলো-
আরবি :
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبْ الْبَاسَ اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা রাব্বান নাসি উজহিবাল বা’সি, ইশফিহি ওয়া আনতাশ-শাফি, লা শিফায়া ইল্লা শিফায়ুকা শিফায়ান লা ইউগাদিরু সাকমা।
অর্থ : হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক, কষ্ট দূরকারী। আমাকে আরোগ্য দিন, আপনি আরোগ্যকারী—আপনি ছাড়া কোনো আরোগ্যকারী নেই। এমন আরোগ্য দিন যেন কোনো রোগ না থাকে। (বুখারি, হাদিস : ৫৭৪২)
জিব্রাইল (আ.) আল্লাহর নবী (সা.)-কে যে দোয়া পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছেন— সেটাও পড়া যেতে পারে। সে দোয়াটি হচ্ছে-
আরবি :
بِسْمِ الله أرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللهُ يَشْفِيكَ، بِسمِ اللهِ أُرقِيكَ
উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আরক্বিক মিন কুল্লি শাইয়িন য়ুযিক। ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন; আল্লাহু ইয়াশফিক। বিসমিল্লাহি আরক্বিক।
অর্থ : আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি। সকল কষ্টদায়ক বিষয় থেকে। প্রত্যেক আত্মা ও ঈর্ষাপরায়ণ চক্ষুর অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য করুন। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি। (মুসলিম, হাদিস : ২১৮৬; তিরমিজি, হাদিস : ৯৭২)
এই দোয়াটি তিনবার পড়ে ফুঁ দিবেন। এছাড়াও সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার পড়ে ফুঁ দিবেন। আমরা যে দোয়াগুলো উল্লেখ করলাম এ দোয়াগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিতে হবে। এরপর যাদুতে আক্রান্ত ব্যক্তি সে পানি পান করবে। আর অবশিষ্ট পানি দিয়ে প্রয়োজনমতো একবার বা একাধিক বার গোসল করবে। তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় রোগী আরোগ্য লাভ করবে।
এছাড়া কালো জাদু থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিন আয়াতুল কুরসি পাঠ করুন। আয়াতুল কুরছি অবশ্যই পড়ার চেষ্টা করবেন। আয়াতুল কুরসি এটা আপনি 5 ওয়াক্ত নামাজের পরে একবার করে পড়বেন। তারপর কুলিয়া আইয়ুহাল কাফিরুন, কুলহু আল্লাহু আহাদ, কুল আউযুবি রাব্বিল ফালাক, আউযুবি রাব্বিল নাস চারটা কুল সূরা পড়বেন প্রত্যেক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পরে এবং সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তেলওয়াত করবেন। এগুলো আপনাকে কালো জাদু থেকে রক্ষা করবে।
এগুলো পড়ে যে আপনি ঘুমান তাহলে এই ব্ল্যাক ম্যাজিক আপনাকে কোন ক্ষতি করতে পারবে না। ব্ল্যাক ম্যাজিক নয় দুনিয়ার কোন শক্তি আপনাকে কোন ক্ষতি করতে পারবে না। অবশ্যই আমরা যদি কাউকে এভাবে বিপদে পড়তে দেখি তাহলে এই গুলো শিখাবো। কারন এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই।
