দেবদাস উপন্যাস (Devdas) রিভিউ ও পিডিএফ Pdf ডাউনলোড

 
দেবদাস উপন্যাসের 

দেবদাস উপন্যাসের সারাংশ বা বুক রিভিউ:


উপন্যাসের দেবদাস বিশ শতাব্দীর ব্রাহ্মণ জমিদার পরিবারের জন্ম নেওয়া এক সন্তান। দেবদাস এর সম্পূর্ণ নাম দেবদাস মুখার্জি।আর পার্বতী অর্থাৎ পারু হচ্ছে এক মধ্যবিত্ত সাধারণ পরিবারের মেয়ে।দেবদাস ও পারুল এদের দুই পরিবারই একই গ্রামে অর্থাৎ তালসোনাপুর গ্রামে পাশাপাশি বাস করে।পাশাপাশি বাস করার ফলে ছোটকাল থেকেই দেবদাস ও পারুর মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি হয়।যদিও পরবর্তীতে এটা প্রেমের রূপ নেয়।

দেবদাস পার্বতীর চেয়েও একটু বড়।দেবদাস পার্বতী কে আদর করে পারু বলে ডাকে।আর পারু দেবদাস কে ❝দেবদা❞ বলে ডাকে।শৈশবে তারা এক সাথে খেলাধুলা করতো, একসাথেই চলাফেরা করতো।বিদ্যালয়েও একসাথে পড়াশোনা করত।পুকুরে মাছ ধরা, ঘুড়ি উড়ানো সবই একসঙ্গে তারা করতো।

দেবদাস পার্বতীর চেয়ে বড় হওয়ার কারণে পার্বতী কোন ভুল করলে দেবদাস তাকে মারতো যদিও এটা পরে ঠিক হয়ে যেত।তবুও এদের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণই ছিল।
দেবদাসের বাবা-মা দেবদাস কে উচ্চ সম্পূর্ণ পড়ালেখার জন্য কলকাতায় পাঠিয়ে দেয়।দেবদাস ও কলকাতায় গিয়ে পড়ালেখা শুরু করে দেয়।তারপর কয়েক বছর পর ছুটিতে সে গ্রামে ফিরে আসে।অনেকদিন পর দেবদাস আর পারুর মধ্যে দেখা হয়।তাদের একজনের প্রতি আরেকজনের ভালো লাগা সৃষ্টি হয়।দেবদাস দেখে তার ছোটকালের পার্বতী অনেক বদলে গিয়েছে।

দুজনেই অনুভব করে তাদের বন্ধুত্ব এখন শুধু  বন্ধুত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একটা ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি হয় দুজনের। পার্বতী যে দেবদাসকে ভালোবাসে সেটা পার্বতীর বাবা-মা জানে।প্রচলিত সামাজিক রীতি অনুযায়ী, পার্বতীর বাবা-মাকে দেবদাসের বাবা-মায়ের কাছে তাদের বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে যেতে হবে। 

পার্বতীর মা দেবদাসের মা হরিমতির কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি প্রথমে খুশি হলেও পরে অজমিদার পরিবারে তিনি তার ছেলেকে বিয়ে দিতে রাজি হন না।কারণ দেবদাস ছিল জমিদার পরিবারের ছেলে।তাছাড়া পার্বতী পরিবারের একটা প্রথা ছিল বরের কাছ থেকে পন নেওয়া যেটা দেবদাস এর মা পছন্দ করত না।আর এই প্রথা দেবদাস এর বাবারও পছন্দ হয়নি।বিয়ে প্রত্যাখ্যান হলে পার্বতীর বাবা নীলকন্ঠ অপমানিত বোধ করেন তাই তিনি তার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার জন্য আরও বড় পরিবার খুঁজতে থাকেন।

পার্বতী এ কথা জানত দেবদাস তাকে পছন্দ করে।তাই রাতের আঁধারে পার্বতী দেবদাসের সাথে দেখা করে।দেবদাস তার বাবাকে বুঝিয়ে বললেও তার বাবা রাজি হয় না এই বিয়েতে।


দেবদাস রাগে ক্ষোভে কলকাতায় চলে যায় এবং পার্বতীকে চিঠি দেয় সে আর পার্বতীকে পছন্দ করেনা।দেবদাসের এমন আচরণ পার্বতীকে অনেক কষ্ট দেয় সেও বিয়ের জন্য তৈরি হয়।পার্বতী দেবদাসকে একটি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করায় যে,তার মৃত্যুর আগে যাতে দেবদাসকে একটিবার দেখতে পায়।দেবদাস ও তাতে রাজি হয়।

পার্বতীর বিয়ে হয়ে যায় এক জমিদারের সাথে।পার্বতীর স্বামী অর্থাৎ ভুবন চৌধুরী একজন জমিদার।ভুবন চৌধুরীর তিন সন্তান রয়েছে এবং তার পূর্বের স্ত্রী মারা গিয়েছে।ভুবন চৌধুরীর তিন সন্তান প্রায় পার্বতীর সমান।

কলকাতায় চন্দলালের মাধ্যমে চন্দ্রমুখীর সাথে দেখা হয় দেবদাসের।চন্দ্র মুখি হচ্ছে একজন বাইজি এবং সে দেবদাসের প্রেমে পড়ে।যদিও দেবদাস তার প্রতি কোনো আগ্রহ দেখায় না। দেবদাস পার্বতীর কথা মনে করে অতিরিক্ত মদ্যপান করা শুরু করে।ধীরে ধীরে তার স্বাস্থ্য অবনতির দিকে যায়।তার স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায় এবং সে কঠিন অসুখের মধ্যে পড়ে।

এসব দেখে চন্দ্রমুখি তার যত্ন নেওয়া শুরু করে।দেবদাস পার্বতী ও চন্দ্রমুখীর মধ্যে পার্থক্য খুঁজতে থাকে যদিও পরে সে চন্দ্রমুখীর প্রেমে পড়ে যায়।কঠিন অসুখে ভোগা দেবদাস বুঝতে পারে তার সময় শেষ।তাই সে প্রতিজ্ঞা পালনে পার্বতীকে দেখতে হাতিপোতা গ্রামে যায়।

কঠিন অসুখের ভোগা দেবদাস পার্বতীর বাড়ির সামনে গিয়েই মারা যায়।পার্বতী খবর পেয়ে দেবদাস কে দেখতে ছুটে যায় কিন্তু তাকে তার বাড়ির আঙ্গিনা পার হতে দেয় না তার শশুর বাড়ির লোক।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তৎকালীন সমাজের রীতিনীতি তুলে ধরেছেন এই উপন্যাসে।শরৎচন্দ্র ছিলেন সিদ্ধহস্ত জীবনরসিক, তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলাে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে বিরাজমান। মানুষের জন্য মানুষের ভালােবাসাকে প্রধান উপাদান হিসেবে রূপায়িত করে শরৎচন্দ্র তার উপন্যাসে সৃষ্ট চরিত্রগুলােকে গৃহ ও সমাজের মধ্যে স্থাপন করেছেন।
আরও পড়ুন.....


দেবদাস উপন্যাস কার লেখা?


বাংলা উপন্যাসের সার্থক ও জনপ্রিয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অনবদ্য সৃষ্টি ‘দেবদাস’ (১৯১৭) ভারতবর্ষ' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।দেবদাস উপন্যাস শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হচ্ছেন বাংলা সাহিত্যের এক অনবদ্য কথা শিল্পী ও লেখক। 


দেবদাস উপন্যাসের বিষয়বস্তু 


দেবদাস শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি প্রণয়ধর্মী বাংলা উপন্যাস। দেবদাস শরৎচন্দ্রের প্রথমদিককার উপন্যাস। রচনার সমাপ্তিকাল সেপ্টেম্বর ১৯০০, কিন্তু প্রকাশনার বছর ১৯১৭।

দেবদাস উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি


>>>কিছু একটা কেবল দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসছে বলেই তা ভালো হয়ে যায় না ।মাঝে মাঝে তাকে যাচাই করে বিচার করে নিতে হয়।যে মমতায় চোখ বুঝে থাকতে চায় সে ই মরে।

—–শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়


>>>অতীত মুছে ফেলার শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে স্থান পালটানো
—–শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়


>>> যাহার প্রাসাদতুল্য অট্টালিকা নদীগর্ভে ভাঙ্গিয়া পড়িতেছে,সে আর খান কতক ইট বাঁচাইবার জন্য নদীর সহিত কলহ করিতে চাহে না৷
—–শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়


>>> যাহাকে ভালোবাসি সে যদি ভালো না বাসে,
এমনকি ঘৃণাও করে তাও বোধ করি সহ্য হয়!
কিন্তু যাহার ভালবাসা পাইয়াছি
বলিয়া বিশ্বাস করেছি, সেইখানে ভুল
ভাঙ্গিয়া যাওয়াটাই সবচেয়ে নিদারুন।
পূর্বের টা ব্যাথা দেয়।
কিন্তু শেষের টা ব্যাথাও দেয়, অপমান ও করে।
—–শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়


>>>কপালের যেখানটায় বসন্তের দাগ ছিল; সবাই চোখ ফিরিয়ে নিত ঘেন্নায়! সেখানটায় চুমো খেয়ে বুঝিয়ে দিতে হয় ভালোবাসা জিনিসটা সবার জন্য আসেনি।
—–শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়


মরণে ক্ষতি নাই, কিন্তু সে সময়ে যেন একটি স্নেহকরস্পর্শ তাহার ললাটে পৌঁছে- যেন একটিও করুনার্দ্র স্নেহময় মুখ দেখিতে দেখিতে এ জীবনের অন্ত হয়৷ মরিবার সময় যেন কাহারও একফোঁটা চোখের জল দেখিয়া সে মরিতে পারে৷


দেবদাস উপন্যাসের শেষ লাইন


মনের মাঝে দু'জনেই পাশাপাশি বিরাজ করিত। কোনদিন বা অত্যন্ত অকস্মাৎ মনে হইত, তাহারা দু'জনেই যেন ঘুমাইয়া পড়িয়াছে। এই সময়টায় মনটা তাহার এমনি অন্তঃসারশূন্য হইয়া পড়িত যে, শুধু একটা নির্জীব অতৃপ্তিই তাহার মনের মধ্যে মিথ্যা প্রতিধ্বনির মতো ঘুরিয়া বেড়াইত।


দেবদাস উপন্যাস কি সত্য ঘটনা


অনেকে হয়তো মনে করেন দেবদাস সম্পূর্ন কাল্পনিক গল্পের উপন্যাস। কিন্তু বাস্তবতা হলো এটা সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত। 


শরৎচন্দ্রের দেবদাস উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র কোনটি?


দেবদাস উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র পার্বতী। পার্বতী কে কেন্দ্র করেই ঘটনা চলতে থাকে।


দেবদাস উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র


দেবদাস উপন্যাস এর মূল চরিত্রগুলো হল।
  • দেবদাস
  • পার্বতী/পারু
  • চন্দ্রমুখী
  • চুনি লাল
  • ধর্মদাস
  • ভুবন চৌধুরী
  • দেবদাসের বাবা
  • দেবদাসের মা
  • পারুর বাবা
  • পারুর মা
  • পারুর ঠাকুরমা
  • দ্বিজলালের স্ত্রী
  • যশোদা, ইত্যাদি
দেবদাস মানে কি?


দেবদাস নামের অর্থ সফল বা বিজয়ী নির্দিষ্ট করে।


দেবদাস উপন্যাস pdf


আমার একটাই আবেদন দেবদাস উপন্যাস টা যদি সত্যিই পড়তে চান বা পড়ে উপভোগ করতে চান, অনুভূতিগুলোকে বুঝতে চান তাহলে মূল শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচনাটাই পড়বেন। আশা করছি খারাপ কোন দিন লাগবে না। অনেকেই এমন আছে যারা মূল উপন্যাসটা না পড়ে মুভি দেখেছে কিন্তু বিশ্বাস করুন পড়লে আশা করছি নতুন দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেবে।
দেবদাস উপন্যাস এখনও যারা পড়েননি তারা নিচে দেওয়া পিডিএফ  PDF ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
নিচে লিখা ❝ডাউনলোড❞ অপশনে ক্লিক করলে ডাউনলোড হয়ে যাবে PDF ফাইল।

ডাউনলোড 

 



Post a Comment

Previous Post Next Post