আমাদের জীবনে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা আমরা প্রথমে সহজ-সরল ভেবে উড়িয়ে দিই। যে কেউ দেখলেই বলবে এর সাথে জটিল কিছুর সূত্র নেই। কিন্তু মানুষ ভাবে এক আর হয় আর এক।
| সার আর্থার কোনান ডয়েলের লেখা, শার্লক হোমসের - নীলকান্তমণি রহস্য গল্পটি ঠিক তেমনই। |
বড়দিন ভোর চারটা বাঝে পিটারসন নামের এক পুলিশ অফিসার তার ডিউটি শেষ করে বাড়ি ফিরছিলো। পথে পিটারসন দেখলো তার আগে আগে এক লোক হেটে যাচ্ছে। মাথায় ক্যাপ এবং কাঁধে একটা হাঁস ঝোলানো। গুন্জ স্টিটের সামনে যখন পিটারসন আসলো তখন দেখলো লোকটাকে কেন্দ্র করে কিছু গুন্ডা জাতীয় লোক কথা-কাটাকাটি করছে। এক পর্যায়ে গুন্ডা গুলো তার গায়ে হাত দেয় এবং তখনই লোকটার টুপি মাথা থেকে পড়ে যায়। পিটারসন, কি হয়েছে দেখতে ছুটে গেলে -পিটারসনের শরীরে পুলিশের জামা দেখে প্রথমে গুন্ডা গুলো এবং পরে লোকটা ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়। পিটারসন সেইখানে পৌঁছে টুপি এবং হাসটি পড়ে থাকতে দেখে। লোকটি ভয়ে এগুলো ফেলে চলে গিয়েছে। আর এইখানে এতগুলো গলি যে, কোথায় কোন দিকে গেল তা পিটারসন খেয়াল করেনি। হাঁসটার পায়ে একটা কার্ড আটকানো ছিল। তাতে লেখা, মিসেস হেনরি বেকার। আর টুপিটার ভিতর এইচ, বি এই দুটি অক্ষর লিখা ছিল।
পিটারসন কিছু বুঝতে পারলো না। তাই সে এর মূল ঘটনা জানার জন্য শার্লক হোমসকে বেছে নিল। হোমসের কাছে টুপি আর হাঁস টি নিয়ে যায় পিটারসন। এবং ঘটনা সব হোমসের কাছে বলে পিটারসন। শুরুতে হোমস এটা স্বাভাবিক ঘটনা ভাবে। তাই সে পিটারসন কে বলে, হাঁসটি নিয়ে গিয়ে রান্না করে ফেলতে।
সেইদিন পিটারসন হাঁসটি রান্না করতে গেলে হাঁসের পেট থেকে একটা চকচকে পাথর পায়। এবং সেটা হোমসের কাছে নিয়ে আসলে- হোমস নিশ্চিত করে এই পাথর টা অনেক দামি পাথর। এটা মরকারের কাউন্টেসের সেই নীলকান্তমণি পাথর। এইবার হোমস বুঝতে পারে ঘটনা আরও বড় যা তাদের আড়ালে রয়েছে।
২২ ডিসেম্বর কসমোপলিটন হোটেল থেকে এই পাথরটি হারিয়ে যায়। এবং এই পাথর যে সন্ধান করে দিতে পারবে তাকে হাজার পাউন্ড পুরষ্কার দেয়া হবে তাও খবরের কাগজে রোজ বের হতো। যে হোটেল থেকে পাথর চুরি হয়েছে, সে হোটেল জেমস রাইডার তদারকি করত। সে একজনের নামে অভিযোগ করেছে। এবং তাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম জন হর্নার। বয়স ২৬ পেশায় কলের জলের মিস্ত্রি।
জেমস রাইডার জানায় সে কাউন্টেসের ঘরের একটি ভাঙা চুল্লি ঝালাই করবার জন্য জন হর্নারকে সেইদিন ডেকে আনে। তারপর কি কাজে সে বাইরে গেলে ফিরে এসে দেখতে পায় জন হর্নার কাজ শেষ করে চলে গেছে। এবং দেখে নীলকান্তমনি রাখা বাক্সটা টেবিলে উপর খোলা এবং ফাঁকা। পরে চিংকার চেচামেচি করে সে পুলিশ কে খবর দেয়। পুলিশ এসে জন হর্নারকে গ্রেফতার করে কিন্তু জন হর্নার এই বিষয়ে বিন্দুবিসর্গ কিছু জানে না। তার ঘর তল্লাশি করেও কিছু পাওয়া যায়নি।
এইদিকে শার্লক হোমস হাঁসের প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়ার জন্য বিভিন্ন খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেয়। যাতে যিনি হাঁসের মালিক অর্থাৎ হেনরি বেকার আসে। আর হেনরি বেকার হয়তো এই বিষয়ে কিছু জানে।
এরপরের দিন বিকালে হেনরি বেকার হোমসের সাথে দেখা করে কিন্তু সে সত্যিই জানে হাঁসের পেটের ভিতর এমন পাথর ছিলো। হেনরি বলে সে এই হাঁস একটি ক্লাব থেকে পেয়েছে। হোমস তখন বুঝতে পারে আসলেই হেনরি বেকার এই বিষয়ে কিছুই জানে না।
শার্লক হোমস পরে অনেক অনুসন্ধান করে জানতে পারে এই পাথর চুরির মূলে রয়েছে হোটেলের কর্মচারী জেমস রাইডার। সেইদিন হর্নার চুল্লির কাজ শেষ করে চলে গেলে জেমস রাইডার পাথরটি চুরি করে। এবং হর্নারকে ফাঁসানোর জন্য তার নামে মিথ্যা অপবাদ দেয়।হর্নার আগে ছিঁচকে চোর ছিল। তাই সবাই জেমসকে সন্দেহ করবে না এই পাথর চুরির জন্য তাই সে একটা সুযোগ পেল এবং চুরি করে হর্নারের নামে দোষ দিল।
জেমস রাইডার তবুও ভয়ে ভয়ে রইল। কারন যখন তখন পুলিশ তার ঘর চেক করতে পারে। তাই সে চিন্তা করল সে তার বোনের বাসায় চলে যাবে। জেমস রাইডারের বোনের একটি হাঁসের খামার ছিলো। জেমস রাইডার তার বোনের বাসায় গিয়ে চিন্তা করতে লাগলো পাথরটি কীভাবে বিক্রি করবে। পরে জেমস রাইডার তার বন্ধুর বুদ্ধিতে একটি হাঁসের পেটে পাথরটি চালান করে দিল যাতে পুলিশ জানতে না পারে, তাদের কাছে পাথর আছে। এবং সে যে হাঁসটির পেটে পাথর রেখেছে সেটাকে চিহ্নিত করে রাখল। জেমস দুপুরে কোন এক কাজে বাইরে গেলে সে ফিরে এসে দেখতে পায় তার বোন সব হাঁস বিক্রি করে দেয়।আর সেই হাঁসগুলোর মধ্যে তার চিহ্নিত করা হাঁসটিও ছিল। এবং বিক্রি করা হাঁস গুলো কোথায় যাবে সেটা সে জানে না।
তখন তার আর কিছু করার নেই। আর এভাবে ধাপে ধাপে যে হাঁসটি পেটে দামী পাথর ছিল সেটা হেনরি বেকারের হাতে এসে পড়ে। আর হেনরি বেকার এই বিষয়ে কিছুই জানে না।
হোমসে কাছে এইসব বিষয় জেমস রাইডার তুলে ধরে এবং সে ক্ষমা চায়। হোমস তাকে বলে, এক শর্তে ক্ষমা করবে যদি সে দেশ ছেড়ে পালায়। আর স্বাক্ষীর অভাবে হর্নার জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যাবে কারন তার বিরুদ্ধে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হোমস চাইলে জেমসকে পুলিশে দিতে পারত কিন্তু বড়দিন উপলক্ষে সে তাকে মাফ করে দেয়। আর এভাবেই গল্পের শেষ হয়।
Jobayer hossen

👍
ReplyDelete