![]() |
| Nim oil |
নিম পাতার গুনের কথা আমরা সবাই জানি। নিমপাতা ঔষুধ হিসেবে সেরা। এটার গুনাবলি বলে শেষ করা যায় না।নিম গাছে প্রচুর পাতা হয়। ভারতে এটি ৪০০০ বছরের বেশি ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। নিম একটি ভেষজ উদ্ভিদ। নিম গাছের উচ্চতা ৭৫ ফুট পর্যন্ত হতে পারে।
কিন্তু নিমের তৈরি তেল কী ত্বকের জন্য উপকারী? আসুন জেনে নেয়া যাক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিমের তেল চুলের জন্য দারুণ উপকারী।এটা চুলের শক্তি যোগায়। চুলকে আরও মজবুত করে। সেই সঙ্গে ত্বকের পরিচর্যাতেও নিমের তৈরি তেলের জুড়ি মেলা ভার। কারণ ত্বকের নানা সমস্যার সমাধানে নিমের তেল কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।
আপনার মুখে যদি বয়সে ছাপ পড়ে তা দূর করতে পারে নিমের তেল। তাছাড়া আমাদের এখন মুখের ব্রণ নিয়ে নানা দুশ্চিন্তা করতে হয়। তা থেকে মুক্তি দিবে নিম তেল। মুখে নিম তেল লাগালে ব্রণ দূর হয়ে যাবে।
যাদের ত্বক অনুজ্জ্বল তারাও এটি ব্যবহার করলে বেশ উপকৃত হবেন।ত্বক হবে উজ্জ্বল। কালোছোপ দাগ দূর হবে নিম তেল ব্যবহার করলে।
নিমে রয়েছে অনেক গুলো উপাদান যা মানবদেহের উপকার করে বহুগুণ। নিমে থাকা উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ই, ট্রাইগ্লিসারাইড, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং ক্যালশিয়াম ত্বকের কোলাজেন বুস্ট করে উজ্জ্বলতা বাড়ায়।আপনার চেহারা করে তোলে আরো আকর্ষণীয়। তাই আর দেরি না করে ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন নিম তেল।
নিমের তেল যেভাবে ব্যবহার করবেন?
উপকারিতা তখনই পাবেন যখন এটি ব্যবহার করবেন। এটা নির্ভেজাল। যাদের ত্বকে সমস্যা আছে তারা আগে মুখে ব্যবহার না করে অল্প একটু হাতে লাগান। যদি ২৪ ঘন্টা পর দেখেন কোন সমস্যা নেই তাহলে ব্যবহার করতে পারবেন। আর সমস্যা হলে ব্যবহার না করাই উওম।
যদি সমস্যা না হয় তাহলে প্রথমে একটি তুলার ছোট বল তৈরি করবেন তারপর তা ভিজিয়ে নিন নিম তেলে। এবার এই তুলার বল দিয়ে ত্বকে করে ম্যাসাজ করুন ১৫ মিনিটের মতো।চাইলে তার বেশি বা কম সময়ও নিতে পারেন।শুধু লক্ষ্য রাখতে হবে এটা ত্বকে ভালো ভাবে লাগছে কিনা। ভালো ভাবে না লাগলে এটার উপকারীতা কিন্তু আপনি পাবেন না। এরপর নিম তেলের পুষ্টিগুণ ত্বকে মিশে যেতে অপেক্ষা করুন ৩০ মিনিট।
৩০ মিনিট রাখা উত্তম তার বেশি চাইলে আপনি রাখতে পারেন কোন সমস্যা হবে না।আজকাল বাজারে অনেক ব্রান্ডের ফ্রস ওয়াশ পাওয়া যায় যা ত্বকের জন্য ক্ষতি তাই কিনার সময় যাচাই বাছাই করে ভালো টা কিনুন। এতে ত্বকের ময়লা দূর হবে আর কোন সমস্যায় পড়তে হবে না।
ভালো ব্রান্ডের একটি ফেস ওয়াশ দিয়ে আপনার মুখ ও ত্বক ধুয়ে নিন। এরপর নিন গরম পানির ভাপ। গরম পানি আমাদের ত্বকের ভিতর ময়লা সরাতে সাহায্য করে। ময়েশ্চারাইজার ক্রিম ব্যবহার করুন। এটি মুখে ম্যাসাজ করে লাগান। নিম তেলের জাদু দেখতে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করুন। তারপর এক সপ্তাহ পর দেখুন নিম তেলের জাদু।
নিম ,ঔষধি গাছ যার ডাল, পাতা, রস, সবই কাজে লাগে। শুধু নিম দিয়েই নিরাময় হয় ২২টি রোগ। নিমের পাতা থেকে আজকাল প্রসাধনীও তৈরি হচ্ছে। কৃমিনাশক হিসেবে নিমের রস খুবই কার্যকর।
তাহলে বুঝতেই পারচ্ছেন নিম পাতা কত উপকারী!
