শয়তানের নীলনকশা- সাহেদ হাসান (বুক রিভিউ)

 আজকে বুক রিভিউ করবো শয়তানের নীলনকশা বইটি লিখেছেন শাহেদ হাসান। এটি একটি ইসলামিক বই। শয়তান আমাদের কীভাবে প্ররোচনা দিচ্ছে এবং আমরা যে ভাবে ফাঁদে পড়ছি তা আংশিক ভাবে এই বইতে তুলে ধরা হয়েছে। 



শয়তান সবসময় আমাদের ধোঁকায় ফেলতে চায়। সে চায় তার ফাঁদে পড়ে আমরা যাতে খারাপ কাজ করি। কারন শয়তান হচ্ছে মানুষের চির দুশমন। আর আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে সূরা বাকারা ১৬৮ নাম্বার আয়াতে বলেছেন,❝নিশ্চিত জান,  সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু❞ 

শয়তান চায় না মানুষের কল্যান হোক। মানুষ সঠিক পথে চলুক। আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করুক। শয়তান সবসময় খারাপ কাজ করবার জন্য মানুষকে উদ্ভুদ্ধ করে। 

হযরত আদম আঃ। যিনি পৃথিবীর প্রথম মানুষ। আল্লাহ তায়ালা তাকেই পৃথিবীতে প্রথম সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। ফলে আদম আ: কে সম্মান হিসেবে সবাইকে সিজদাহ্ দিতে বলেন আল্লাহ। কিন্তু সবাই দিলেও এক ইবলিশ আল্লাহর সাথে তর্ক করল আর আল্লাহ তায়ালা তাকে চিরতরে জান্নাত থেকে বিতাড়িত করলেন।

শয়তান ইবলিশ বিতাড়িত হওয়ার সময় মনে প্রানে শপথ নিল মানুষ নামে এই প্রানীকে সে সদা সর্বদা বিপদে ফেলবে এবং খারাপ কাজ করবার জন্য প্ররোচনা দিবে। সে মানুষকে কুপথে চালিত করবে এবং সবসময় খারাপ চিন্তা ভাবনা মানুষের  মাঝে চালনা করবে।

শয়তান সব সময় পরিকল্পনা করে সে মানুষকে কিভাবে কুপথে চালিত করতে পারে। জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার এই পরিকল্পনা। শয়তান মানুষকে বিভ্রান্ত করে আর এইটাই হচ্ছে শয়তানের  নীলনকশা বইয়ের মূল ও প্রধান অংশ অথবা মূল বিষয়বস্তু । 

আপনি কোন কাজে সফল হতে গেলে সেই খানে নানা রকম বাধা আসে। যা চিরকালই আসছে। আপনাকে পথের কাটা দূর করতে হবে।  জানতে হবে আপনার দূর্বলতা কোথায়? কে আপনার শক্র? কে আপনার বন্ধু?  এসব দিকে আপনাকে যথেষ্ট মনোযোগ দিতে হবে এবং জানতে হবে।  এসব না জানলে আপনি বিপদে পড়বেন। তা জানতে হবে আপনাকে। 

খুঁজতে হবে আপনাকে। কেউ খুঁজে দিবে না। কেউ সমাধানের পথ দেখিয়ে দিবে না।  আপনাকে সমাধানের রাস্তা বের করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এটা করতে পারবেন না ততক্ষণ পযন্ত আপনি নিশ্চিন্ত নন। কারন এই উত্তর গুলো আপনাকে একটি সুন্দর ও সমাধানের রাস্তা খুঁজে দিবে। 

শয়তান প্রধানত ২ ভাবে মানুষকে কুপথে চালিত করে  আল্লাহর অবাধ্য করে আর আল্লাহর ইবাদতে গাফেল করে । দেখতে সহজ মনে হয়। এটা আর কি! মনে হতে পারে আল্লাহর ইবাদত করলে ও বাধ্য হয়ে চললেই তো শয়তান পরাজিত।  এটা তো সহজ! কিন্তু আদও তা নয়। 

শয়তানের নীলনকশা বইয়ে ২৭ টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।  এর ফলে কি,কেন,কীভাবে ইত্যাদির উত্তর সুন্দর ভাবে সূচিত করা হয়েছে।  যা পাঠক খুব সহজে বুঝতে পারবে এবং এইখান থেকে তথ্য ও জ্ঞান নিতে পারবে। যা তাদের জীবন দশায় পরিবর্তন আনবে। 

আল্লাহ তায়ালা শয়তান সৃষ্টির কারন, শয়তান মানুষকে কুপথে নিয়ে যাওয়ার কৌশল,  শয়তানের বিরাট বাহিনী,  তার পরিচয়, ইলুমিনাটি, দাজ্জাল, ফিৎনা, সোশাল মিডিয়ার ভয়াবহ জগৎ,ম্যাজিকের সাথে   শয়তানের কাজের মিল, ভিডিও গেমস বা  মিউজিক ইত্যাদি নেশার চেয়ে কোন অংশে কম নয়, পর্নোগ্রাফি, নারীবাদী ইত্যাদির ক্ষতিকর দিক উঠে এসেছে। এছাড়া সমকামিতা, নাস্তিকতা, ট্রান্সহিউম্যানিজম, প্রসেসড ফুড, শিক্ষা ব্যবস্থা, হ্যালোউইন উৎসব,  কৃত্রিম গর্ভ ইত্যাদি বিষয় দলিল সহকারে বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে। 

মিউজিকের মাধ্যমে আমরা জড়িয়ে পরছি খারাপ কাজের সাথে। গান শুনতে শুনতে মানুষের নেশা হয়ে যায়। এটা ছাড়া চলা কঠিন হয়ে যায় কিন্তু গান আমাদের মাঝে মাদকতা, উদ্দামতা, বিকৃত মানষিকতা তৈরি করে যা আমাদের ও সমাজের জন্য ক্ষতি ছাড়া সুফল বয়ে আনতে পারে না।

নারীবাদ আবার একটা অংশ দায়ী এর জন্য।  এদের কে কাজে লাগিয়ে একদল সুবিধা নেয়। এদের কাজের সুযোগ দিবে বলে, কিন্তু তার বিনিময়ে তাদের কে দিয়ে খারাপ কাজ করায় কিছু সার্থ লোভী প্রতারক। এরাই ধ্বংস করে এই সমাজ,  এই রাষ্ট্র। নারীরা অর্থ উপার্জন করতে বের হয়ে, অন্ধকার পৃথিবীতে পা দেয়।  এদের কে সহজলভ্য করে দেয়া হয়।  

কিছু নারী আছে যারা যেনে শুনে এসব কাজে জড়ায়। এরা বসের ঘনিষ্ঠ হতে চায়। বসকে খুশি করতে বিছানা পর্যন্ত যেতে এদের কোন আপত্তি নাই। বসকে খুশি করা এবং এর মাধ্যমে নিজের সার্থকে হাসিল করা এদের একমাত্র কাজ।

পর্ন আসক্তি স্বামী ডুবে থাকে বিকৃত যৌনাচারে আর স্ত্রী এর বিরুদ্ধে কিছু বললে শুরু হয় অশান্তি। কিছু কিছু জড়িয়ে পড়ে পরকীয়া তে।  শেষে দুইজনের সংসার ভাঙে। ইতি ঘটে একটি সুন্দর জীবনের। যেটা কারও সফল বয়ে আনতে পারে না। 

এখন জনপ্রিয় হতে যতটুকু নিজেকে নিচু করা যায় তা খুব সহজে মানুষ করছে যেন এটা একটা গর্বের বিষয়। কিছু দিন পর হয়ত দেখা যাবে নীচু হতে হতে এদের আর মনুষ্যত্ব পর্যন্ত থাকবে না। এরা যৌনাচার কে এত সহজ করে ফেলছে যে একসময় বিয়ে করা ছাড়া এরা বাচ্চা নিবে এবং অবাধে মেলামেশা করবে।এবং এটা খুব গর্ব সহকারেই করবে। 

একটা মারাত্মক দিক উঠে এসেছে, মা-বাবা অনলাইন জগৎ নিয়ে এত ব্যস্ত যে নিজের সন্তানের খেয়াল রাখতে পারে না। এরা অনলাইনে সচল বেশি। এদের কর্মকাণ্ড সবকিছু এরা ভারচুয়াল জগৎ এর সাথে শেয়ার করে। নিজের সন্তানের ভালো বা খারাপ এরা লক্ষ্য করে না আর সেই সুযোগে সন্তান দিন দিন খারাপ থেকে অধিকতর খারাপ হয়ে উঠে। পরে মা-বাবার শাসন এরা মানে না। 

বইতে একটি পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে পর্নোগ্রাফি আসক্তির। যেটা খুবই ভয়ানক।  এত এত ভিজিটর এমন মরন অন্ধকার হিংস্র জগতে পা দেয় প্রতিদিন এবং প্রতিনিয়ত। এদের মস্তিষ্ক বিকৃত হচ্ছে। ফলে সমাজে বেড়ে চলছে খারাপ কাজ করার প্রবণতা। সমাজে শিশু  থেকে শুরু করে নারীরা পর্যন্ত ভয়ে ও আতংকে দিন পার করচ্ছে। এদের কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তার উত্তর কারও কাছে নাই। 

»» ❝মুক্ত বাতাসের খোঁজে❞  বইটি পর্নোগ্রাফি আসক্তি  নিয়ে লেখা চাইলে আমার দেওয়া বুক রিভিউ পড়তে পারেন। 

মূলত বলতে গেলে মানুষকে কুপথে, ভুল পথে, খারাপ পথে,  বিভ্রান্ত করার সকল উপকরণ নিয়ে ❝শয়তানের নীলনকশা❞ বইতে লিখা হয়েছে। এখানে একটা একটার সাথে সম্পর্ক আছে। একটা ফিৎনা ঘটার ফলে আরেকটা ফিৎনা ঘটছে। এসব ফিৎনা থেকে  বেঁচে থাকতে দরকার কৌশল। তাই এগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে যা ❝শয়তানের নীলনকশা❞ বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে। 

এটা খুবই উপকারী একটি বই। অনেক কিছু সম্পর্কে জানতে পারবেন। বুঝতে পারবেন। ফিৎনা থেকে বেঁচে থাকতে এই বইটি আপনাকে দিক নির্দেশনা দিবে। মূলত সর্তক ও শিক্ষানীয় একটি বই। সবার এটা পড়া দরকার যাতে কেউ ভুল পথে পা দিতে না পারে।  সবার কাছে এটার এক কপি থাকা আবশ্যক। 

বইটি কাদের জন্য? 

এটি সকল মানুষের জন্য। মুসলমানের জন্য অমুসলিমের জন্য। সকালের জন্য ❝শয়তানের নীলনকশা❞ বইটি কাজে আসবে। মুসলিমের ইমানকে আরো শক্তিশালী ও তাজা করবে। ভুল পথ থেকে সরে আসতে পারবেন। 

আমার কাছে বইটি কেমন লেগেছে? 

❝শয়তানের নীলনকশা❞ বইটি সম্পর্কে আমি জানতে পারি আমার এলাকার এক ভাই থেকে। তিনি আমাকে এই বই পড়তে উৎসাহ দেন। আমি সেই উৎসাহ থেকে তার কাছ থেকে বইটি নিয়ে পড়ি।  বইটি যতক্ষণ আমি পড়তাম ততক্ষণ আমার আশেপাশে কি ঘটছে তা সম্পর্কে আমার কোন ধারণা বা মনোযোগ ছিল না। বইটি এত মনোযোগ দিয়ে পড়েছি কখন বইটির শেষ পাতায় চলে এসেছি তা খেয়াল ছিল না। এটার সূচনা থেকে শেষ অবধি সব কিছু আমার ভালো লেগেছে।  প্রত্যেক বিষয়ের শুরুতে সূচনা দেয়া যা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। মানব হ্দয় প্রতারিত হয়ে কি কি খারাপ কাজ করে তা এই বইতে বিষদ ভাবে আলোচনা করা হয়েছে।  শয়তান কীভাবে আমাদের দিয়ে খারাপ কাজ করায় বা প্ররোচনা দেয় তাও সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। 


বইটি সম্পর্কে কিছু কথা ঃ

  • বইটির নাম» ❝শয়তানের নীলনকশা❞
  • লিখেছেন » শাহেদ হাসান 
  • বইটি প্রকাশনা করেছে » পড় প্রকাশ 
  • বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা »৩২০ 
  • কভার »হার্ড কভার
  • মুদ্রিত মূল্য » ৭৮০ টাকা 
  • বইটি কোথায় পাবো? 

এটি আপনি অনলাইনে ❝রকমারি. com❞ ওয়েবসাইট থেকে পাবেন। রকমারিতে আপনি কিছু টাকা ছাড়ে এই বইটি পেয়ে যেতে পারেন। কারন রকমারি বইয়ের উপর ছাড় দেয়।তাছাড়া অফলাইনে পেতে হলে লাইব্রেরিতে গিয়ে  বইয়ের খোঁজ নিলে বইটি পেয়ে যাবেন। আশাকরি বইটি থেকে আপনারা অনেক কিছু সম্পর্কে জানতে পারবেন। 

Post a Comment

Previous Post Next Post