 |
| বয়স্ক বাবা ও শিশু |
ইদানিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢুকলে দেখা যায়,অধিকাংশ পুরুষ বেশি বয়সে বাচ্চার বাবা হচ্ছেন।এর প্রবনতা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। অনেক পুরুষ আবার জীবনের শেষ সময়ে আবার বাচ্চার বাবা হচ্ছেন।
কিছু দিন আগে একটা সংবাদ দেখলাম, হলিউড কিংবদন্তি তারকা আল পাচিনো ৮৩ বছর বয়সে নতুন করে বাবা হয়েছেন। তার স্ত্রী আলফাল্লাহ হলেন পাচিনোর ৪র্থ সন্তানের মা। তার স্ত্রী অর্থাৎ আলফাল্লাহর বয়স ২৯।
শুধু মাএ অভিনেতা পাচিনো নয় আরও অনেক বিখ্যাত লোক আছেন যারা শেষ বয়সে বাবা হয়েছেন। পাচিনোর আগে হলিউড কি কিংবদন্তি রবার্ট ডি নিরো ৭৯ বছরে বাইরে হয়েছেন। তার মোট সন্তান ৭টি। শেষ বয়সে বাবা হওয়ার ক্লাবে এখন নতুন করে যোগ দিল আল পাচিনো।
 |
| আল পাচিনো ও তার স্ত্রী |
শুধু এই দুইজনেই নয়,আরো অনেক চলচ্চিত্র তারকা,একাধিক আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিখ্যাত ও নামি দামি সঙ্গীত শিল্পীরা শেষ বয়সে নতুন করে বাবা হয়েছেন।
এসব ঘটনা কিছুটা ব্যতিক্রমী কিন্তু এটা মানতে হবে যে, পুরুষদের বাবা হওয়ার গড় বয়স দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আমেরিকা তে এর সংখ্যা কিছুটা বেশি। এখানে শেষ বয়সে বাবা হওয়া পুরুষের সংখ্যা ও বেশি। একটি গবেষণায় দেখা গেছে বাবা হওয়ার বয়স গড় আগের তুলনায় আমেরিকায় ১৯৭২ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে গড়ে বয়স বেড়েছে সাড়ে তিন বছর।
এই প্রথম বার আমেরিকায় পুরুষদের বাবা হওয়ার গড় বয়স ৩০.৯। এটি শুধু কথায় নয় বাস্তবে উঠে এসেছে এমন তথ্য। সাম্প্রতিক বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল হিউম্যান রিপ্রডাকশনের একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আমেরিকাতে ৯ শতাংশ পুরুষ প্রথম বার বাবা হয়েছেন ৪০ বছর বয়সে। তবে গিনেজ বুক রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি বয়সে বাবা হয়েছে ৯২ বছরের এক বৃদ্ধ পুরুষ। মাঝে মাঝে শুনা যায় এর চেয়ে বেশি বয়সে বাবা হয়েছে কিছু পুরুষ কিন্তু তা কতটা সত্যি তার কোন প্রমাণ বা ভিত্তি নেই।
বেশি বয়সে বাবা হলে কি কি ক্ষতি হতে পারে?
সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গিয়েছে শারীরিক বা মানসিক বিকলাঙ্গতা নিয়ে যেসব শিশু জন্ম গ্রহণ করছে তার প্রধান কার বেশি বয়সে বাবা হওয়া। ।বেশি বয়সে বাবা হওয়ার ফলে এক বা একাধিক ঝুঁকি রয়েছে। আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব ইউটা এবং অন্য কিছু প্রতিষ্ঠান একসাথে বা যৌথভাবে এই বিষয়ে একটি পরিক্ষা চালায় এবং এর একটি গবেষণা পএ প্রকাশ করে। সেখানে দেখানো হয় বেশি বয়সে বাবা হওয়ার ফলে কি কি প্রভাব পড়ে। গর্ভধারণ ক্ষেত্রে অথবা ফাটিলাটির ওপর কি কি প্রভাব পড়ে এবং জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রে শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব কিভাবে পড়ে।
তবে বেশি ভাগ পরিক্ষাতে আল পাচিনোর মত বয়সকে বিবেচনা করা হয়নি। কারন এই বয়সে বাবা হওয়া একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। কিন্তু এটা সত্য ও প্রমাণিত যে,৪০ বছর বয়স ও ৫০ বছর বয়সের পুরুষের বীর্যের শুক্রাণুর মান কমে যায়। বীর্যের শুক্রাণুর মান যেমন কমে তেমনি টিকে থাকা এবং মিউটেশনের ক্ষমতা ও কমে যায়।
অর্থাৎ পুরুষের বয়স বেড়ে গেলে সঙ্গীর গর্ভধারণের সম্ভাবনা কিছু টা কমে যায়। আর যদি গর্ভ ধারন করে ও থাকে সেক্ষেত্রে গর্ভপাতের ঝুঁকি অনেকটা বেড়ে যায়। এটা একটা বড় ঝুঁকি হিসেবে কাজ করে। তাই কেউ যদি চিন্তা করেন বেশি বয়সে সন্তান নিবেন তাহলে আজই এমন চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বাবা হওয়ার বয়স অনেক বেশি হলে এর প্রভাব স্ত্রীর ওপর পড়তে পারে। যেমন বলা যায়, নারীর গর্ভপাতের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাছাড়া রয়েছে আরও বেশ কিছু ঝামেলা। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর দেখা যায় শিশুর নানা রকম সমস্যা।
গবেষণায় প্রমাণিত ১৯৫০ দশক থেকে, বেশি বয়সের পুরুষের শুক্রাণু দিয়ে সন্তান জন্ম গ্রহণ করলে সেই সন্তানের অ্যাকোনডোপ্লাসিয়া নামে জ্বিনগত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থেকে। তাছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের রোগ ঘটতে দেখা যায়। জটিল অনেক রোগ সম্পর্কে ইদানীং শুনা যাচ্ছে।
মূলত এটা পরিষ্কার যে, বেশি বয়সে সন্তানের বাবা হলে সন্তানের নানা রকম ঝুঁকি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নারীর ক্ষেত্রে যেমন, ঠিক তেমনি পুরুষের ক্ষেত্রে ও পুরুষের বয়স বাড়ার ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানের স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এই তথ্য ইউটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গবেষণার মাধ্যমে বের করেছেন।
➡সন্তানের কী কী হওয়ার ঝুঁকি থাকে?
বেশি বয়সে পুরুষরা বাবা হলে, বাচ্চার ওজন এক্ষেত্রে কম হতে পারে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তাদের পরিক্ষা করা গবেষণা থেকে বের করেছেন, নবজাতক বাচ্চার ওজন কম হওয়া এবং বার বার অজ্ঞান হওয়ার সাথে বাবার বয়সের একটি যোগ সূত্র আছে। তাছাড়া আরও কিছু ঝুঁকি আছে। যেমন বাবার বয়স বেশি হলে বাচ্চার অল্প বয়সে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া জন্মগত হোক বা শিশুর বৃদ্ধির সাথে সাথে শিশুর হৃদপিণ্ডে অনেক ধরনের সমস্যা বা ক্রুটি দেখা দিতে পারে।
কিন্তু এটা সত্য গবেষণায় যা তুলে ধরা হয় বা প্রকাশ করা হয় তা বাস্তব জীবনে ঘটবে এমন সুনির্দিষ্ট ভাবে বলা যায় না। অন্য সব গবেষণা পুরোপুরি মিলে গেলে ও স্বাস্থ্য সমস্যা এবং এর সম্ভাব্য কারণ নিয়ে যে সমস্ত গবেষণা হয় সেগুলো ব্যাপারে কিছু বলা যায় না।
অনেক সময় বয়স ছাড়া আর ও অনেক কিছু ফ্যাক্টর হতে পারে। যেমন, বাবা-মার স্বাস্থ্য কেমন, তারা কেমন জীবন পরিচালনা করে বা পরিবেশ গত সমস্যা অথবা পরিবেশ দূষণ। গবেষকরা এটা নিশ্চিত যে পুরুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে যেসব কোষ দিয়ে পুরুষের শুক্রাণু তৈরি হয় সেগুলো দূর্বল হতে থাকে। যার ফলে জন্ম নেওয়া শিশুটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।
একসময় বাচ্চা না হলে মানুষ, সমাজ নারীকে দোষারোপ করত। সবাই বলত এটা নারীর কারণেই হচ্ছে না।যার ফলে যত গবেষণা সব নারীর বন্ধ্যাত্ব নিয়ে করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এটা পরিষ্কার হচ্ছে যে, পুরুষ ও বন্ধ্যাত্বের শিকার হয়। মূলত বিশেষ করে পুরুষের বয়স এখানে একটা মূল ফ্যাক্টর বা গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।
৯০ বছর বয়সে বাবা হওয়া এখন বিরল। কিন্তু আল পাচিনো বা রবার্ট ডি নিরো তা করে দেখিয়েছে। সেইসাথে অল্প বয়সে বাবা হওয়া যুবকদের সংখ্যা ও দিন দিন কমে যাচ্ছে। আমেরিকাতে ৩০ বছরের কম বয়সী বাবাদের সংখ্যা কমেছে ২৭ শতাংশ। আর অন্যদিকে বেশি বয়সে বাবা হওয়ার ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৪৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সে বাবা হওয়ার সংখ্যা ৫২ শতাংশ বেড়েছে।
এসব ঘটনা ঘটতে থাকলে সামনে চিকিৎসা ক্ষেত্রে আরও উন্নতি করতে হবে। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এখন কেউ মাথা ঘামায় না। এর সংখ্যা বেড়ে গেলে তার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে চিকিৎসা বিজ্ঞানকে।
⋙》বাবা হওয়ার জন্য কোন বয়সটা সঠিক?
অনেক পুরুষের ধারণা সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের বয়স কখনো বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। তারা মনে করে বয়স ফ্যাক্টর করে শুধু নারীদের ক্ষেত্রে। বিষয়টা আসলেই ভুল ও ভ্রান্ত ধারণা। পুরুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে শুক্রাণু গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
 |
| শুক্রাণু |
তাছাড়া বয়স বাদে মানসিক চিন্তা, ধূমপান,মদ্যপান ইত্যাদির ফলেও পুরুষের শুক্রাণুর ক্ষতি হয়।
বাবা হওয়ার জন্য সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়স সঠিক। কারন এই সময় কোষ সব সচল ও শুক্রাণুর পরিমান বেশি থাকে পুরুষদের। ৪০ বছর পর্যন্ত বাচ্চা নিলে তা স্বাভাবিক কিন্তু ৫০ বছরের উপর বাচ্চা নিলে তাতে ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। আর ৪০ বছর বয়সের পর পুরুষের বাবা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।অনেক বিজ্ঞানির মতে পুরুষের শুক্রাণু কখন ও শেষ হয় না তবে তা বয়স বাড়ার সাথে সাথে কমতে থাকে।
ভালো লাগলে কমেন্ট করতে ভুলবেন না।