মাঝে মাঝে আমরা যা দেখি তা নাকি সত্য নয়। যা নিজের চোখে দেখি তা বিশ্বাস করি, মনে ধারন করি। নিজের চোখে দেখা ঘটনা অনেক সময় সত্য হয় না এমন টাই শুনে আসছি ছোট বেলা থেকে।
আজ একটা সত্য ঘটনা বলব আপনাদের। সত্য কি মিথ্যা যাচাই করবেন আপনারা। আপনাদের হাতে তুলে দিলাম এই ভার।
আমার পরিচয় দেয়ার দরকার নেই কারন এটা গল্পের সাথে রিলেটেড না। আমি তখন থাকতাম কলকাতায়। একটা সরকারি আদালতে চাকরি করতাম। জীবনে অনেক বিচিএ রকমের কেস দেখেছি কিন্তু এটার মত কোনটাই ছিল না। ১২ বছরে এই প্রথম এমন ঘটল যা আমাকে আজও আশ্চর্য করে ও প্রচন্ড রকম ভাবিয়ে তুলে।
একলোক খুনের অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেফতার হয়। তার অপরাধ একটি ছেলেকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা। আর আজ তাই তাকে আদালতে হাজির করানো হয়েছে। বিচার শুরু হল। বিচারক প্রথমে ৫ জন স্বাক্ষীর বক্তব্য শুনলো যারা আসামির বিপক্ষে কথা বলল। এই পাঁচ জন হচ্ছে প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী। এরা সেই দিন অপরাধী কে খুন করতে দেখে। অপরাধ টি ঘটার সময় এরা প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ কাজ করছিল। এবং সবাই খুব ভালো করে দেখেছে যে অপরাধী এই লোকটি। এরা শুধু অপরাধী কে লাশের উপর পড়ে থাকতে দেখেনি বাদ বাকী সব প্রমানই অপরাধীর বিপক্ষে। ১ জন বা ২ জন হলে একটা কিন্তু থাকে কিন্তু যখন ৫জন লোক নিজ চোখে এই হত্যাকান্ড টি ঘটতে দেখে তাহলে বুঝতে হবে আজই আসামির শেষ দিন। সে যতই ছটফট করুক,যতই সরকারি উকিল রাখুক তার কপালে অদৃষ্ট আছে। তাই সবাই জানে আজ আসামির ফাঁসি নাহয় আজীবন জেলে পড়ে মরতে হবে। আমি ও অনুমান করলাম রায় কোনদিকে যাবে। মাছ যখন জালে আটকা পড়ে তখন খুব ছটপট করে কিন্তু বেলা বাড়লে তা আপনা আপনি কমে যায় আসামির অবস্থা ঠিক তেমনই। এক এক করে এসে প্রত্যেক স্বাক্ষী প্রায় একি কথা বললো। প্রত্যেকের কথাই বিশ্বাস করার মতো।আসামি এই বিষয়ে কিছু জানে না।যেইদিন খুনের ঘটনা ঘটে সেইদিন আসামি তার বাসায় ছিলেন। আসামির উকিল স্বাক্ষীদের চেপে ধরলেন। তাদের চোখ কতটুকু ভালো? চোখে সমস্যা আছে কিনা? এইধরনের অনেক কথা জিজ্ঞেস করল কিন্তু প্রত্যেক স্বাক্ষী তাদের চোখ ভালো এবং তারা যে ঘটনাটি খুব ভালো করে দেখেছে তা স্বীকার করল। আর অপরাধী যে কাঠগড়ায় দাড়িয়ে আছে এই বিষয়ে ৫জনের মধ্যে কারো সন্দেহ নাই। স্বাক্ষীদের কথা শুনে বিচারক যখন রায় লিখতে এবং শোনাতে প্রস্তুত হচ্ছেন ঠিক তখনই আসামি পক্ষের উকিল দাড়িয়ে একজনের নাম ধরে ডাক দিলেন। কিছুটা অবাক হলাম তারপর যা ঘটল তা দেখে আমি হতবাক এবং বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। দেখলাম প্লাবিক আসন থেকে একজন দাঁড়াল। যিনি দাঁড়িয়েছেন তিনি হুবহু কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির নকল। একি শরীরের রং,চেহারার মিল,উচ্চতা ও একি। আমার মতো অনেকেই এই দৃশ্য দেখে থতমত খেয়েছে এবং আশ্চর্য রকম অবাক হয়েছে।
বিচারক কি বলবে কিছুখনের জন্য তাও ভুলে গেল। সবার মাঝে একটা চাপা কথার সৃষ্টি হলো। এতক্ষণ যে মামলাটি পানির মতো সচ্ছ ছিল তা কীভাবে কিছু সময়ের ব্যবধানে এমন কঠিনতর হয়ে গেল। ছটপট করা মাছটি তার মুক্ত হওয়ার সন্ধান পেয়ে গেল।
আসামি পক্ষের উকিল এইবার গলার স্বর উঁচু করে স্বাক্ষীদের জিজ্ঞেস করল, কাঠগড়ায় দাড়িয়ে আছেনউনি খুনি নাকি সবার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে সে ভাইটি খুনি? স্বাক্ষী দিয়েছেন এমন ৫ জন ব্যক্তি কেউ কিছু বলতে পারলো না। বলবে কিভাবে চেহারে হুবুহু কপি। ৫জন ব্যক্তিই চুপ করে রইল। আসামির উকিল বিচারকের কাছে বলল, আমার মক্কেল যে খুনি তার প্রমান কিছুখন আগে ছিল কিন্তু এখন নেয়। তাই মহাদয়ের কাছে বলবো আমার নিরপরাধ মক্কেলকে প্রমানের অভাবে জামিন দিন কারন সে যে খুন করছে তার কোন প্রমান নেই।
যেখানে প্রত্যক্ষ স্বাক্ষীদাতারা চুপ হয়ে গেছে সেইখানে বিচারক আর কোন প্রমান পেলেন না। আর নিরপরাধ ব্যক্তিকেও জেলে রাখা যায় না। বিচারক ভেবে চিন্তে রায় দিলেন, প্রমানের অভাবে সসম্মানে আসামি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জামিন দেওয়া হলো। বাস্ ছাড়া পেয়ে গেল আসামি।
কীভাবে এক খুনি প্রকাশ্যে সবার চোঁখের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেল তা আজও আমি বুঝতে পারলাম না। খুন তো হয়েছে আর ২ ভাইয়ের মধ্যে একজন খুন করেছে। জমজ, অবিকল ভাইয়ের জন্য খুনি নিশ্চিত ফাঁসি থেকে বেঁচে গেল।
jobayer hossen
