ছোট বেলায় আমরা হ্যারি পটার বইটি পড়িনি এমন মানুষ খুব কমই আছে। আর যারা ছোট বেলায় পড়েন নি তারা বড় হলেও পড়েছেন।
| এই হ্যারি পটার বই পড়ে শিশু কিশোর রা কত কল্পনা করতো, নিজেদের কে সে জায়গায় নিয়ে যেত।তারা পছন্দ করতো নিজেদের কে, হ্যারি পটার এর চরিত্রের জায়গায় তুলে ধরতে। হ্যারি পটার বই পড়ে তাদের মাঝে এক ধরনের আনন্দ, ভয়, কৌতুহল আবার সাহসীকতার ভাব ফুটে উঠতো। |
হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন এই সিরিজের প্রথম ও সর্বাধিক জনপ্রিয় বই।
বইয়ের একদম শুরুতে তুলে ধরা হয় এক ভাগ্য বিড়ম্বিত শিশুকে নিয়ে। নাম হ্যারি পটার। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর হ্যাগ্রিড নামে এক জাদুকর তাকে নিয়ে যায়- ৪ নাম্বার প্রিভেট ড্রাইভে। সেটা ছিল হ্যারির আঙ্কেল- আন্টির বাসা। অদ্ভুত স্বভাবের এই দম্পতি হ্যারি কে দেখে প্রথমে বিরক্ত হন পরে তারা তাকে গ্রহণ করলেও তাকে ঠিক মতো যত্ন বা আদর কোনো টাই করত না। তাকে সবসময় অবহেলা করত এবং এটা যে তার বাড়ি না, বা তারা যে তার আপনজন না সেটা সুযোগ পেলে প্রকাশ করত।
হ্যারি কে থাকবার জন্য কোনো ঘর দেয়া হয়নি সুতরাং তাকে থাকতে হতো সিঁড়ির নিচে কাবোর্ডে। তাকে নতুন কোনো পোশাক দেয়া হতো না। পুরনো কাপড় পড়ে তাকে সবসময় থাকতে হতো।
এগুলো তাকে কষ্ট দিতো কিন্তু এই কষ্ট গুলো ছাপিয়ে যেত, যখন তার খালাত ভাই ডাউলি তাকে সুযোগ পেলেই মারধর করত। কাউকে বিচার দেওয়ার কোন অবকাশ ছিলনা হ্যারির। সেখানে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠল। কিন্তু কিছুই করার নেই।
এর মধ্যে হোগার্টস নামে এক জাদুবিদ্যার স্কুল থেকে হ্যারির নামে চিঠি আসতে থাকে। কিন্তু সেই চিঠি গুলো হ্যারির কাছে যাওয়ার আগে, তার আঙ্কেল-আন্টি পড়ে সে চিঠি গুলো ছিঁড়ে ফেলত।
একদিন হ্যাগ্রিড নামে সেই জাদুকর টা এসে হ্যারিকে নিয়ে যায়, তারপর সে হ্যারিকে তার বাবা-মায়ের মৃত্যুর ঘটনা এবং ড্রার্সলি দম্পতির অপকীর্তি ফাঁস করে দেয়। যেহেতু হ্যারি বাবা-মা কেউ বেঁচে ছিল না এবং হ্যারি ছিল একদম একা।
হ্যারি ভর্তি হয় হোগার্টস নামে জাদুর স্কুলে। সেখানে গিয়ে যেমনি তার বন্ধু তৈরি হয় তেমনি তার খারাপ চাওয়া কিছু লোক ও তার আশেপাশে সবসময় বিরাজ করত।
হ্যারি সেখানে গিয়ে সব কিছুতে ভালো করত এবং তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী যারা করত তারা সবসময় হ্যারির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত। কিন্তু কিছুতেই হ্যারি কে তারা হারাতে পারত না এবং অসফলই থেকে যেত।
এই স্কুলে এসে হ্যারি তার নতুন কিছু বন্ধু পেয়ে যায়। রন ও হারমিওন ছিল হ্যারির সবচেয়ে কাছের বন্ধু। এই দুটি বন্ধু কে নিয়ে সে প্রতিটি খেলায় জয়লাভ করত এবং তার সুনামের এতটা প্রসার ঘটে যে, সবার কাছে সে পরিচিত হয়ে যায়।আর এভাবেই বইটি শেষ হয়।
এ বইয়ে রাওলিং শিশু -কিশোরদের অন্ত জগতের যে সব অসম্ভব ও অবাস্তব কল্পনার সৃষ্টি হয় তার কথা যেমন বলছেন তেমনি সে কল্পনার উপর ভর করে তাদের নিয়ে গেছেন জাদু বাস্তবতার আশ্চর্য জগতে।
শিশু কিশোর রা রূপকথা শুনতে ভালোবাসে এবং তা রাওলিং তাদের শুনিয়েছেন। তার এ রূপকথার মধ্যে জীবন বাস্তবতার নির্মম, নিষ্ঠুরতম চিত্র আছে। আর আছে মাতৃ হ্রদয়ের চিরন্তন স্নেহশীলতা ও মমত্ববোধ।
জোবায়ের হোসেন
